প্রকাশিত : বুধবার , ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৭:১১।। প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , দুপুর ০২:০০
রিপোর্টার : রংপুর ব্যুরো

চুক্তির ১৫ লাখ টাকা দিতে না পারায় রংপুরে শিক্ষক গ্রেফতারের নাটক!


রিপোর্টার : natunkhabor

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়, রংপুর-এর উপ পরিচালক রোকসানা বেগম কর্তৃক ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে এক সাবেক শিক্ষককে পুলিশে দেওয়ার ঘটনাকে ‘নাটকীয়’ দাবি করেছেন গ্রেফতারকৃত শিক্ষক মাইদুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা বেগম। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি আট লাখ টাকাসহ মাইদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি উপপরিচালকের কাছে ঘুষ দিতে এসেছিলেন। মঙ্গলবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা চর শৌলমারীর নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে আমেনা বেগম দাবি করেন, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও তিন কর্মচারীর এমপিওভুক্তির ফাইল কোনো কারন ছাড়াই তিনি তিনবার রিজেক্ট করেন। এতে করে চরম অনিশ্চয়তায় পরেন স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীরা। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। 

এমপিওভুক্তির জন্য উপপরিচালকের সঙ্গে দুইবার দেখা করেন শিক্ষক মাইদুল। কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে উপ-পরিচালক ব্যস্ত থাকায় দলীয় সরকারের সময়ে তাকে আসতে বলেন। 

চলতি মাসের এমপিওভুক্তির জন্য ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা একসঙ্গে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রথম দফায় আট লাখ টাকা নিয়ে গেলে উপপরিচালক ক্ষিপ্ত হন। পরে মাইদুল ইসলামকে ‘দালাল’ হিসেবে চিহ্নিত করে থানায় সোপর্দ করা হয় বলে দাবি পরিবারের।

আমেনা বেগম আরও বলেন, আমার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন। যাদের এমপিওভুক্তির কথা ছিল, তাদের বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে হাতে-নাতে ধরা পড়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি শাহজাহান আলী জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় শিক্ষা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়।

স্থানীয় সচেতন মহলও বলছেন, অভিযোগ-প্রতিআরোপের এই ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত জরুরী। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। মাইদুল ইসলামের পরিবারও দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন।